সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ১১:১৪ অপরাহ্ন

দশমিনায় তথ্য সেবাকর্মীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ

সন্জয় কুমার, দশমিনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১
  • ৯৭ জন নিউজটি পড়েছেন

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৬নং বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবাকর্মী (উদ্দোক্তা) মাওলানা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগী নারীদের অর্থ আত্মসাৎ ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (৬ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়নের মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত চার নারী।

লিখিত অভিযোগে রেজাউল দর্জির স্ত্রী মরিয়ম বেগম জানান, বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের তথ্য সেবাকর্মী মাওলানা মহিউদ্দিন তার কাছ থেকে ৯ শ’ ৫০ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন এবং ভাতার কার্ডে ছবি সংযুক্ত করার কথা বলে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির ছবি তুলে রাখেন। নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী তানজিলা বেগম জানান, মাওলানা মহিউদ্দিন তিন দফায় তার কাছ থেকে দুই হাজার ৩ শ’ ৫০ টাকা নিয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে তাকে অনৈতিক কাজের জন্য কুপ্রস্তাব দেয়। আলমগীর হাওলাদারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম জানান, তিনি ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তার ভাতার প্রথম কিস্তিতে পাঁচ হাজার, দ্বিতীয় কিস্তিতে দুই হাজার ৪ শ’ এবং পরে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তাদের চাপে তৃতীয় কিস্তিতে ছয় হাজার ৪ শ’ টাকা দেয়া হয়। বাকি টাকা মাওলানা মহিউদ্দিন আত্মসাৎ করে। সোহরাব মৃধার স্ত্রী পিয়ারা বেগম জানান, মাওলানা মহিউদ্দিন তার ভাতার টাকা থেকে দুই কিস্তিতে এক হাজার ২ শ’ ৫০ টাকা রেখে দেয়। তিনি আরো জানান, ওই ইউনিয়নের মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগী ১ শ’ ৩০ জন নারীর কাছ থেকে বিভিন্নভাবে টাকা আত্মসাত করেছে মাওলানা মহিউদ্দিন। এছাড়াও মাওলানা মহিউদ্দিন প্রতিটি জন্ম নিবন্ধনে ৬ শ’ টাকা করে আদায় করেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিলে মাওলানা মহিউদ্দিন ৪/৫ জন সন্ত্রাসী যুবককে দিয়ে পিয়ারা বেগমকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন আকন জানান, মাওলানা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ আগেও পেয়েছি। তাকে একাধিকবার সাবধান করেছি, কিন্তু তিনি শোনেননি।

অভিযুক্ত মাওলানা মহিউদ্দিন জানান, আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি আরও জানান, মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগী নারীরা ভাতার টাকা তুলতে পুরুষ আত্বীয়-স্বজনদের সাথে নিয়ে আসেন, তাই অনৈতিক কুপ্রস্তাব দেয়ার কোন প্রশ্নই আসেনা। আর টাকা নেওয়ার বিষয়টিও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

উপজেলা নির্বার্হী অফিসার মো. আল আমিন জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমাদের বাউফল ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাচ্ছি পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © 2019 amaderbauphal.com
themesba-lates1749691102