সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ১০:৫৬ অপরাহ্ন

বাউফলে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই ভাষা শহিদদের স্মৃতি স্মারক

রইসুল ইমন,স্টাফ রিপোটার
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৯ মে, ২০২১
  • ৭৭ জন নিউজটি পড়েছেন

বাংলা ভাষার ইতিহাস এক রক্তক্ষয়ী ত্যাগের ইতিহাস। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত, শফিউর সহ নাম না জানা অনেক শহীদের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত হয় বাংলা ভাষা। ভাষা শহিদদের এই আত্মত্যাগের শিক্ষা কেবলমাত্র বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে মহান করেনি সেই সাথে বাঙ্গালিদের দিয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে আনার মত সাহসিকতা। তাই বাংলাদেশী বাঙ্গালিদের সত্ত্বায় ভাষা আন্দোলন ও ভাষা শহিদদের স্মৃতি স্মারকগুলোর প্রতি রয়েছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

কিন্তু পটুয়াখালীর বাউফল সরকারি কলেজ ও বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নয়ন কাজের জন্য ভাষা আন্দোলনে শহিদ হওয়া সেই বীরদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতি স্মারক (শহিদ মিনার) ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিলো তবে দীর্ঘ বছরেও তা পুনঃনির্মাণ করা হয়নি এখনো। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন, শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং ‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ইতিহাস, চেতনা ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে আগামী প্রজন্মকে শানিত করে সম্যক ধারণা দেয়ার লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার থাকার কথা।

জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সুবিধা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার বিবেচনায় সকল সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই ন্যায় ২০১৯ সালের জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করে স্থানীয় সাংসদ আ স ম ফিরোজ। এই কাজের জন্য ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিলো এই প্রতিষ্ঠানের শহিদ মিনার। সেই ভবন নির্মাণ ছয় মাস আগে শেষ হলেও এখনো নির্মাণ করা হয় নাই শহিদ মিনার।

সরকারি কলেজের ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে দুই বছর আগে, করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে দীর্ঘদিন যাবত পাঠদানও করানো হয়েছিলো সেই ভবনে তবে আজ অবদি নির্মাণ করা হয় নাই ভাষা আন্দোলনে জীবন দেয়া বীর শহিদদের স্মরণে শহিদ মিনার। এছাড়া বাউফলের অন্য সকল প্রতিষ্ঠাননের শহিদ মিনারের অধিকাংশই প্রায় সারা বছর পড়ে থাকে অবহেলা ও অযত্নে। যেন দেখার কেউ নেই।

অন্যদিকে এই বছর বাউফল আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেড়ে বাউফল কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সংঘাতের ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা শঙ্কায় এই দুই প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থীরা শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেও যেতে পারে নাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাউফল সরকারি কলেজের কিছু শিক্ষার্থী বলেন, এটি(কলেজ) নামেই শুধু একটি সরকারি কলেজ, কাজের বেলায় কিছুই নেই। না শিক্ষা আছে, না কোন নিয়ম-কানুন আইন আছে পুরো অদ্ভুদ এক প্রতিষ্ঠান এটি। কয়েক বছর যাবত শহিদ মিনার না থাকায় আমরা বন্ধুরা নিজ উদ্যোগে ২১শে ফেব্রুয়ারিতে ভ্রাম্যমাণ শহিদ মিনার তৈরী করে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেছি। মায়ের ভাষা রক্ষার জন্য যারা জীবন দিয়েছে সেই বীরত্বগাথা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধায় কলেজে শহিদ মিনার না থাকা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক মনে করেন, উন্নয়ন কাজের জন্য শহিদ মিনার যদি ভাঙ্গার প্রয়োজন হয়, তাহলে ভাঙ্গার আগেই শহিদ মিনার পুনঃনির্মাণের ব্যবস্থা নিয়ে রাখা উচিত। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার না থাকাটা দুঃখজনক বিষয়৷

এসব বিষয় নিয়ে ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা গনি মৃধার সাথে আলাপ হয় দৈনিক পর্যবেক্ষণ প্রতিনিধির তিনি বলেন, “বাঙালির জাতীয় জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ভাষা দিবস। ১৯৯৯ সাল থেকে একুশ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃত। এ দিবসের সঙ্গে বাঙালির আবেগ জড়িত। এই দিবস জাতীয় জীবনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তোলা এবং মুক্তির প্রেরণা যোগায়। এটি পাকবাহিনীর প্রভুত্বপূর্ণ আচরণ ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ। এ দিবস সম্পর্কে না জানা মানে দেশের ইতিহাস না জানা। শিক্ষার্থীদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও ভাষা শহিদদের সম্পর্কে শিক্ষা ও ধারণা প্রদানের জন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার থাকা আবশ্যক।”

বাউফল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাসার বলেন, আমি কিছুদিন আগে এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছি, যোগদানের পরে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন একাডেমি ভবন, শহীদ মিনার সহ সকল নতুন স্থাপনার জন্য বাজেট দিয়েছি। তবে বিগত বছরে কেনো শহীদ মিনার পুনঃনির্মাণ করা হয় নাই সেটা আমার জানা নেই।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভর্তি কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, শহিদ মিনার ভাঙ্গা বা পুনঃনির্মাণের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমার জানা মতে ওই ভবনের এখনো কিছু কাজ বাকি আছে। বিদ্যালয় খুললে আমি সকল শিক্ষক ও ভবন নির্মাণের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে নিয়ে আলোচনা করবো।

যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন শহিদ মিনার নির্মাণের কোন চুক্তিতে পুরানো শহিদ মিনার ভেঙ্গে থাকে তাহলে তাদেরকে সেটা পুনঃনির্মাণের ব্যবস্থা করার আদেশ দেয়া হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে এমন কোন চুক্তি না থাকলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নতুন শহিদ মিনার নির্মাণের ব্যবস্থা করবো।

আমাদের বাউফল ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাচ্ছি পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © 2019 amaderbauphal.com
themesba-lates1749691102