সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৯:১৫ অপরাহ্ন

কালের বিবর্তনে বিলীন প্রায় গ্রাম বাংলার ভ্রাম্যমাণ আইসক্রিম ওয়ালা

রইসুল ইমন
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ২৯ মে, ২০২১
  • ৭৬ জন নিউজটি পড়েছেন

পটুয়াখালীর বাউফলে গত পাঁচ বছর আগেও রাস্তায় প্রতিদিন দেখা মিলতো ফেরি করে বিক্রি করা ভ্রাম্যমাণ আইসক্রিম ওয়ালাদের। হাতে পিতলের তৈরী ছোট্ট ঘন্টা ও মাথায় কাঠের তৈরী রঙিন আইসক্রিমের বাক্স নিয়ে ফেরি করতে দেখা যেতো তাঁদের। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে এদের দেখা যেত নিয়মিত।

ছাত্র-ছাত্রীরাও তখন গড়মের দিনে একটু সুযোগ পেলেই ছুটে এসে লুফে নিতো ২টাকা থেকে ১০ টাকা দামের এসব ললি আইসক্রিম। এটাই ছিলো গড়মে তৃষ্ণা মেটানোর অন্যতম মাধ্যম। খুব স্বাদের ছিলো এই আইসক্রিম গুলো। নারকেলের তৈরী একধরনের আইসক্রিম বিক্রি করতো তাঁরা যেটা কখনোই ভোলার মত নয়। একেকজন আইসক্রিম ওয়ালা প্রতিদিন প্রায় চল্লিশ পঞ্চাশ টি করে আইসক্রিম বিক্রি করতো। এই সামান্য উপার্জন দিয়েই চলতো বেশ কিছু সংসার। বৈশাখী মেলা ছিলো এসব আইসক্রিম ওয়ালাদের বড় উৎসবের সময় কারণ তখন প্রতিদিনের চাইতে একটু বেশিই বিক্রি হতো।

কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষ আধুনিকতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন মানুষ বিভিন্ন নামি-দামি ব্রান্ডের আইসক্রিম খেতেই পছন্দ করছে। চাহিদা অনুযায়ী ব্রান্ড গুলাও কম দামে কিছু আইসক্রিমের যোগান দিচ্ছে। তার সাথে বিদ্যুতায়ন বেড়ে যাওয়া সকল ধরনের মুদি-মনোহারি দোকানেই চলছে রেফ্রিজারেটর (ফ্রিজ)। এসব দোকান থেকে সহজেই ক্রয় করা যাচ্ছে ব্রান্ডের আইসক্রিম। ব্রান্ডের এসব আইসক্রিম মানুষের ভালো লাগছে, এখন তাহলে সেই ভ্রাম্যমাণ আইসক্রিম ওয়ালাদের কি অবস্থা এখন? তাঁরা সকলেই পেশা পরিবর্তন করে ফেলেছে। কেউ রিক্সা চালিয়ে, কেউ দিনমজুরি করে চালাচ্ছে সংসার। মানুষের এই আধুনিকতার ভিড়ে ধীরে ধীরে বিলীন হচ্ছে এসব আইসক্রিম ওয়ালাদের গল্প। হয়তো সেই আইসক্রিমের স্বাদ নিতে পারবে না এই প্রজন্ম তবে গত প্রজন্মের গ্রামীণ মানুষ কখনো ভুলতেও পারবে। ভালো থাকুক আমাদের গ্রাম বাংলার পুরানো সংস্কৃতির সহজ-সরল মানুষগুলো।

আমাদের বাউফল ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাচ্ছি পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © 2019 amaderbauphal.com
themesba-lates1749691102