সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ১০:৪০ অপরাহ্ন

বাউফলের তেঁতুলিয়ার ত্রাস ‘মহসিন ডাকাত’

এম এ হান্নান
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ৫ জুন, ২০২১
  • ১৮৪ জন নিউজটি পড়েছেন

পটুয়াখালীর বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীর ত্রাস মহসিন ডাকাত। তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন সশস্ত্র মহসিন বাহিনী। দিনে দুপুরে করেন ডাকাতি। নিদিষ্ট হারে চাঁদা দিয়ে নদীতে নামে জেলে নৌকা। চাঁদা না দিলে শুরু হয় নির্যাতন লুটপাট। অদৃশ্য কারণে প্রশাসনের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে মহসিন ডাকাত।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বরিশালের দূর্গাপাশা থেকে বাউফলের ধুলিয়া, কেশবপুর, নাজিরপুর ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের প্রায় ৫হাজার জেলেরা মহসিন ডাকাতের কাছে জিম্মি। ছোট নৌকা ৫ হাজার, ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ১০হাজার টাকা করে বছরে দুই বার চাঁদা দিতে হয় তাকে। চাঁদা না দিলে শিকার হতে হয় হামলা, মারধর নির্যাতন ও লুটপাটের। মহসিনের নির্যাতনের শিকার হয়নি এমন জেলের সংখ্যা খুবই কম। তাঁর নির্যাতনে গুরুত্বর আহত হয়েছেন মমিনপুরে ইব্রাহিম ব্যাপারী, ফিরোজ হাজী, অহেদ মাল, দুলাল গাজী, মোতাহার, মিরাজ, সজল সিকদার, ধুলিয়া ইউনিয়নের মঠবাড়িয়ার জহিরুলসহ অনেকে।

নির্যাতন থেকে বাঁচতে চাঁদা দেওয়া এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। চরাঞ্চল থেকে দিনে দুপুরে গরু মহিষও নিয়ে যায় ওই দস্যু বাহিনী। অনুসন্ধানে জানা যায়, কেশবপুর ইউনিয়নের ১০/১২জনের সংঘবব্ধ দালাল চক্র মহসিন ডাকাতের এজেন্ট হয়ে কাজ করেন। তাদের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়। এদের মধ্যে মমিনপুরের কুক্কা খালেক ও বাদামতলীর ফারুক জোমাদ্দার সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

কেশবপুরের কালামিয়ার বাজারের এক বিকাশের দোকান থেকে টাকা লেনদেন হয় বলে জানা যায়। এছাড়াও কেশবপুর ইউয়িনের একটি প্রভাবশালী মহলের সাথে মহসিনের যোগাযোগ রয়েছে। মহসিনের কাছ থেকে সুবিধাও নেন তারা। ডাকাতি হওয়া মালামাল উদ্ধারে রফাদফাও করেন ওই প্রভাবশালী মহল। জাফরাবাদ ও বাদামতলী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, কেশবপুর ইউয়িনের লালচরে প্রায় ৫০টি খাল রয়েছে। এসব খালে মাছ ধরে প্রায় ১হাজার জেলে জীবিকা নির্বাহ করে।

চলতি মৌসুমে ওই চর মহসিন বাহিনী দখলে নিয়ে গেছেন। এতে প্রায় ২০লাখ টাকার মৎস্য সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কেশবপুরের জেলেরা। এবিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ওসি ও ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুখ্যাত এই ডাকাত ভোলা জেলার দৌলতখাঁন উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর গ্রামের কয়ছর গাজীর ছেলে।

মহসিন ডাকাতের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে কাজ করেন তার আপন ভাই পারভেজ গাজী। অন্যতম সহযোগী হিসাবে কাজ করেন তাঁর মামা হাসান ও কবির রাঢ়ী। ২০/২৫জন সদস্য নিয়ে গড়ে তুলেছেন দস্যুবাহিনী। এই বাহিনীর কাছে পাইপগান, রিভালবারসহ দেশীয় অস্ত্রের ব্যাপক মজুদ রয়েছে। ডাকাতিকালে কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কেশবপুর ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি বলেন,‘ তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে প্রায় মানুষই জেলে। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁরা। মহসিনের ভয়ে কেউ কিছু বলবে না। সবাই চাঁদা দিয়ে নদীতে মাছ ধরে। আমি নিজেও জেলে। কয়েকদিক আগেও আমার ট্রলারে হামলা করে মহসিন। আমার নাম প্রকাশ হলে আবারও আমার ওপর হামলা হবে।

ওই জনপ্রতিনিধি আরও বলেন,‘ ভোলা, পটুয়াখালী ও বাউফলের পুলিশের কাছে অনেক বার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য কারনে পুলিশ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড মহসিন ডাকাতকে ধরতে পারছে না।

নাম পরিচয় গোপন রেখে মুঠোফোনে মহসিন ডাকাতের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। এসময় চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করে মহসিন ডাকাত বলেন,‘ আমার নামে দালালেরা টাকা তোলে। তা থেকে আমাকে ৩-৪ হাজার টাকা করে দেয়।

বাউফল থানা অফিসার ইনচার্জ আল মামুন বলেন,‘ মহসিন ডাকাতকে ধরতে পুলিশের চেষ্টা চলছে।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন,‘ এবিষয় নিয়ে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

আমাদের বাউফল ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাচ্ছি পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © 2019 amaderbauphal.com
themesba-lates1749691102