শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

বাউফলে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১
  • ১৩৪ জন নিউজটি পড়েছেন

পটুয়াখালীর বাউফলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। প্রভাবশালীরা অবাধে করছেন অবৈধ বালুর ব্যবসা।

স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বোমা ড্রেজার দিয়ে গ্রামাঞ্চলের খাল, বিল ও পুকুর থেকে যত্রতত্র ভূ-গর্ভস্থ বালু-মাটি উত্তোলন করায় হুমকিতে পড়ছে বাঁধ, ফসলি জমি ও ঘর বাড়ি। বছরের পর বছর ড্রেজার মালিকেরা এ অবৈধ বালুর ব্যবসা করে আসছে। মাঝে মাঝে দুই একটা অভিযান পরিচালনা করলেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কোন কার্যকারী ভূমিকা চোখে পড়ছে না। এতে করে দিন দিন বেড়ে চলছে এ অবৈধ বালু- মাটির ব্যবসা।

বৃহস্পতিবার সরেজিমনে দেখা যায়, উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের বাহির দাশপাড়া গ্রামের ফসলি জমিতে ড্রেজার বসিয়ে ভূ-গর্ভস্থ বালু-মাটি উত্তোলন করছেন ইউপি সদস্য মো. হারুন হাওলাদার ও মো. মজিবুর কাজী। পুকুর ভরাটের কাজে উত্তোলনকৃত বালু প্রতি ঘনফুট সাড়ে ৬টাকা ধরে কিনে নিচ্ছেন মো. সুজন ও মামুন বিশ্বাস নামের দুই ব্যক্তি। চার বছর যাবৎ এ অবৈধ বালুর ব্যবসা করছেন মজিবর ও হারুন।

এছাড়াও বাউফল পৌরসভা, চন্দ্রদ্বীপ, নওমালা, বগা, মদনপুরা ও কেশবপুর ইউনিয়নসহ উপজেলার প্রায় ১০/১৫টি পয়েন্টে চলছে এ অবৈধ বালুর ব্যবসা। এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বালুর বেশিভাগই স্থানীয় ঠিকাদাররা তাদের নির্মাণ কাজে ব্যবহার করছে। ফলে মাটি মিশ্রিত এ বালু দিয়ে তৈরি সড়ক ও স্থাপণা টেকসই হয় না। এতে সরকারের উন্নয়ন কাজের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে। তাছাড়া কম খরচে ও সহজ পদ্ধতিতে বালু পাওয়ায় পুকুর, ডোবা ভড়াট ও গৃহ নির্মাণ কাজে পরিবেশ বিধ্বংসী এ ড্রেজার ব্যবহার করা হচ্ছে।
বালু উত্তোলনের কাছে নিয়জিত শ্রমিকেরা জানান, একদিনে প্রায় ১হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা যায়। প্রতি ঘনফুট বালু ৫ থেকে ৭ টাকা দরে বিক্রি হয়। দর নির্ধারন করা হয় দুরত্বের উপর নির্ভর করে। দুরত্ব যত বেশি, দরও তত বেশি। একটা ড্রেজার পরিচালনা করতে ৫/৭জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। জনপ্রতি শ্রমিকের দৈনিক মুজরি দেওয়া হয় ৪শ থেকে ৬শ টাকা পর্যন্ত।

মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের বরিশাল কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ জানান,‘ মাটির নিচ থেকে কাদা বালু উত্তোলন করা হলে ভূমির উপরিভাগ ঠিক থাকলেও তলদেশের ব্যাপক জায়গা নিয়ে ফাঁকা হয়ে যায়। রাস্তা ঘাট স্থাপনা ডেবে যেতে পারে। এছাড়াও কৃষি জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হলে কৃষি জমি গুলো অকৃষি জমিতে রূপান্তরিত হবে। এ বালু উত্তোলন পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি।

এ বিষয়ে ড্রেজার ব্যবসায়ী মো. হারুন হওলাদার ও মজিবর কাজী বলেন,‘ শুধু আমার না, আরও অনেক ড্রেজার চলে। তারা বন্ধ করলে আমরাও করবো।

এ বিষয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) আনিছুর রহমান বালি জানান,‘ অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতি পূর্বে চর বাসুদেব পাশায় মাটি বিক্রির অপরাধে ২লাখ টাকা জরিমান ও ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও মদনপুরা ও দাশপাড়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে দুজনকে ১লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আমাদের বাউফল ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাচ্ছি পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © 2019 amaderbauphal.com
themesba-lates1749691102