মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন

কালাইয়া-ঢাকা নৌরুটের লঞ্চগুলোতে যাত্রী ভোগান্তী চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ১৪০ জন নিউজটি পড়েছেন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দর লঞ্চ ঘাট থেকে প্রতিদিন ঢাকার উদ্দেশ্যে নৌ-পথে ছেড়ে যায় একটি ডাবল ডেকার লঞ্চ। ঢাকা থেকেও প্রতিদিন কালাইয়ার উদ্দেশ্যে ছাড়ে একটি ডাবল ডেকার লঞ্চ। রোটেশনে মোট চারটি লঞ্চ চলাচল করে এই নৌ-রুটে। লঞ্চ গুলোতে প্রথম শ্রেণীর (কেবিন) যাত্রীদের থেকে ভাড়া অন্যান্য নৌ-রুটের লঞ্চ গুলোর মত নেয়া হলেও যাত্রীদের দেয়া হয় না নির্ধারিত সেবা।

এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এই নৌ-রুটে চলাচল করা কয়েক শতাধিক যাত্রী। যাত্রীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালাইয়া থেকে ঢাকা নৌ-রুটে প্রতিদিন ছেড়ে যাওয়া লঞ্চ গুলো যাত্রী সেবার অবস্থা খুবই নাজুক। অন্যান্য নৌ-রুটের লঞ্চ গুলোতে যাত্রা করে প্রথম শ্রেণীর যেসকল সেবা পাওয়া যায় তার ১০ ভাগ সেবাও নেই এই নৌ-রুটের লঞ্চ গুলোতে। কেবিন বয়দের ড্রেস কোড না থাকায় তাদের খুঁজতে বিপাকে পরতে হয় যাত্রীদের। এছাড়া স্বল্প সংখ্যক স্টাফ থাকায় জরুরি প্রয়োজনেও ডেকে পাওয়া যায় না স্টাফদের। কেবিনগুলোতে টিভি থাকলেও সেগুলো চালানো যায় না কখনো। মনে হয় যেনো সোপিচ হিসেবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে এসি কেবিনগুলোতে এসি শেষ কবে চলেছে তা জানা নেই কোন যাত্রীর। কাপড় রাখার স্টান্ড গুলো ভাঙ্গা রয়েছে অধিকাংশ কেবিনের। শৌচাগার ব্যবহারের যাওয়ার জন্য কেবিন গুলোতে নেই আলাদা পন্স (জুতার) ব্যবস্থা। খাবারের পানির বোতলগুলো ৫/৬ মাসের থেকে বেশি পুরোনো। প্রথম শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগারের পরিবেশ খুবি নোংরা ও অপরিষ্কার। এমনকি প্রথম শ্রেণীর যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেই বললেই চলে। দ্বিতীয় ও ৩য় শ্রেণীর যাত্রীরা গভীর রাতেও অনায়াসে চলাচল করতে পারে প্রথম শ্রেণীর কেবিন গুলোর আশেপাশে। এমন অবস্থায় একধরনের জিম্মি করে প্রথম শ্রেণীর ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কেবিনের যাত্রীদের থেকে। কেবিন যাত্রীদের একই ভাড়ায় সকল ধরনের প্রথম শ্রেণীর সুবিধা দেয় একই উপজেলার বগা ঘাট হয়ে পটুয়াখালী থেকে ঢাকা নৌ-রুটে চলাচল করা লঞ্চগুলো। তাহলে কালাইয়া থেকে ঢাকা নৌ-রুটের যাত্রীরা কেন প্রথম শ্রেণীর যাত্রী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে? এমন প্রশ্ন এই রুটে চলাচল করা সহস্রাধিক যাত্রীর।

একটি নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা যায়, কালাইয়া থেকে ঢাকা নৌ-রুটের লঞ্চগুলোর ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পারাবত ১৪ নামের একটি লঞ্চ নাম পরিবর্তন করে ঈগল ৫ নামে চলাচল করে এই রুটে। এছাড়াও লঞ্চগুলোতে নেই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও দুর্ঘটনা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী। কয়েকটি লঞ্চে জুয়ার আসর বসে প্রতিনিয়ত। এই আসর গুলো বসাতে সার্বিক সহযোগিতায় থাকেন লঞ্চ স্টাফের একটি অংশ।

এই রুটের লঞ্চগুলোতে চলাচল করা একাধিক যাত্রী জানান, লঞ্চে যাত্রা করার রাতে ঘুম হওয়ার কোন সুযোগ নেই। লঞ্চের মেশিনারি গুলোতে এতোটাই সমস্যা যে বিকট শব্দে কেবিনের ভিতরে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরী হয় এবং প্রচুর কম্পন হয়। এতোএতো সমস্যা নিয়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ দিয়েও মিলছে না কোনো সুরাহা। তবে ভাড়া কম নিতেও রাজি নয় লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। অন্য রুটের লঞ্চের মত যাত্রীদের প্রথম শ্রেণির সেবা না দিলেও ভাড়া আদায় করা হয় অন্য রুটের আলোকে। এছাড়া দুর্ঘটনা মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নেই, তাই বর্ষার দিনে জীবনের ঝুকি নিয়ে লঞ্চ যাত্রা করতে হয় তাদের। অন্যান্য নৌ-রুটের লঞ্চ গুলোতে এসকল সমস্যা নেই, আরামে যাত্রা করা যায়।

সচেতন যাত্রীরা এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়ী করছেন৷ তাদের মতে কালাইয়া ও নুরাইনপুরের লঞ্চঘাটে প্রবেশের জন্য যে ছোট খাল গুলোতে আসতে হয়, সেই খাল গুলো ড্রেজিং না করার ফলে আধুনিক সেবা সম্পন্ন বড় লঞ্চ গুলো চলাচল করতে পারে না এই নৌ-রুটে। যার ফলে ফিটনেস বিহীন এসকল লঞ্চ তাদের রাজধানী যাত্রার শেষ ভরসা। তাঁরা মনে করেন, যাত্রীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা উচিত। এছাড়া এই খাল দুটির ড্রেজিং করে আধুনিক সেবা সম্পন্ন লঞ্চ এই নৌ-রুটে চলাচল করানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

এই নৌ-রুটের যাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রনি বলেন, ঈগল- ৫ লঞ্চের কেবিনে শুয়ে থেকে মনে হয়েছে ইঞ্জিন রুমে শুয়ে আছি। কেবিনে পাই নি জুতা। ফ্যান নষ্ট ছিলো ৩১০ নং কেবিনে। ফোন চার্জ দেয়ার সুযোগতো একদমই নেই। তবে বগা’র রুটে যাতায়াত করলে এই সমস্যার সম্মুখীন হইনি কখনো।

এই নৌ-রুটের যাত্রী ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, কোনো ধরনের সেবাই পাইনা আমরা। বলতে পারেন বাধ্য হয়ে জিম্মি দশায় পইড়া এতো বেশি ভাড়া দিতে হয়।

এ বিষয়ে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও কথা বলতে রাজি হয়নি কোনো লঞ্চের কর্তৃপক্ষ। তবে বন্ধন-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার শাহজাহান হোসেন বলেন, “আমরা সবসময় নির্ধারিত সেবা দেয়ার চেষ্টা করি এবং ভাড়া সরকার নির্ধারন করে দিয়েছে। এখানে বেশি ভাড়া নেয়ার সুযোগ নেই”।

আমাদের বাউফল ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাচ্ছি পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © 2019 amaderbauphal.com
Design By MrHostBD
themesba-lates1749691102