মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন

সেতু এখন মরণফাঁদ

রইসুল ইমন
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০২২
  • ১১৯ জন নিউজটি পড়েছেন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের উত্তর সুলতানাবাদ গ্রামের কাজী বাড়ি সংলগ্ন একটি সেতু দীর্ঘ এক বছর ভেঙ্গে পরে থাকলেও নজরে আসে নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। দীর্ঘ সময় চলাচলের অনুপযোগী থাকার পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে সিমেন্টের স্লাব ব্যবহার করে কোনো মতে চলাচল করছে চার ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষ। কিন্তু থামছে না দুর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, মসজিদের মুসল্লী ও মহিলারা সেতু দিয়ে যাতায়াতের সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

সেতুটির সংলগ্ন একটি মসজিদ ও আশেপাশে প্রাইমারি স্কুল, মাদ্রাসা সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সেতু। এছাড়াও নাজিরপুর ইউপি থেকে মদনপুরা, নুরাইনপুর, ধুলিয়া ও কেশবপুরে যেতে হলে এই সেতু ছাড়া বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই দ্রুত সেতুটি সংস্কার করার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক বছরের বেশি সময় আগে বর্ষার দিনে হঠাৎ সেতুটির একাংশ ধ্বসে পরে এবং সেতু চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। এরপরে প্রায় ৬ মাস পরে ততকালীন স্থানীয় চেয়ারম্যান সেতুটি সংস্কারের জন্য ১০ হাজার টাকা দেয় স্থানীয়দের। সেই টাকায় গাছের গুড়ি দিয়ে সংস্করণ করে কোনো মতে চলাচল করতে থাকে মানুষ। কিছুদিন পরে সেই গাছের গুড়ি ভেঙ্গে পরে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা একাধিক বার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করে কোনো সুরাহা না পেয়ে নিজ উদ্যোগে সিমেন্টের স্লাবের মাধ্যমে সেতুটির সংস্করণ কাজ করে।

সেতু সংলগ্ন বায়তুল মোবারক জামে মসজিদের ইমাম মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, সেতুটি সংস্কার না হওয়ায় প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে৷ স্থানীয় লোকজন দীর্ঘদিন যাবত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গতসপ্তাহে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা উল্টে গিয়ে মহিলা ও শিশুসহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছে।

স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাক চৌকিদার বলেন, আজকে ১৪-১৫ মাস যাবত ব্রিজটির এই বেহাল দশা। আমরা আল্লাহর নাম নিয়ে সাহস করে মসজিদে আসা যাওয়া করি। কিন্তু মা বোনদের অনেক অসুবিধা হয়।

একজন পথচারী বলেন, এই সেতুটি হঠাৎ একদিন ভেঙ্গে যায়। এটি খুবি ব্যস্ততম একটি সড়ক। সেতুটিতে চলাচলের সময় প্রায় যানবাহন আটকে যায়, দুর্ঘটনা ঘটে। এতো ব্যাস্ত একটি সড়কে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষ কেনো এতোটা উদাসীন বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাতে চাই, দ্রুত এই সেতুটি ভেঙ্গে নতুন একটি সেতু নির্মাণ করে জনগণের ভোগান্তি লাঘবের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

দুর্ঘটনার শিকার অটোরিক্সা চালক মোহাম্মদ হোসেন জানান, তিনি রাতে যাত্রী নিয়ে নুরাইনপুরের উদ্যেশ্যে যাওয়ার সময় সেতুতে দুর্ঘটনার শিকার হন। এই সেতু যাতায়াতের সময় যাত্রীদের নামিয়ে খালি গাড়ি নিয়ে খুব কষ্টে যাতায়াত করা লাগে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করতে উপজেলা প্রকৌশলী মো. সুলতান হোসেনের কার্যালয়ে একাধিকবার গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিঁনি বলেন, ‘ আসলে বিষয়টি আমাদের কেউ জানায়নি। জানলে তারপরে সংস্কারের একটি ব্যবস্থা করা যায়। ‘ একবছর সেতুটি ভাঙ্গা অবস্থায় আছে তবুও আপনার জানা নেই, এমন প্রশ্নের জবাবে তিঁনি বলেন, ‘ না আমার জানা নেই। কেউ আমাকে বলেনি। ‘

আমাদের বাউফল ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাচ্ছি পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © 2019 amaderbauphal.com
Design By MrHostBD
themesba-lates1749691102